এ কাজটি না করলে হ্যাক হবে আপনার ফেসবুক একাউন্ট (হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায়)

PB

এ কাজটি না করলে হ্যাক হবে আপনার ফেসবুক একাউন্ট (হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায়) – ফেসবুক ব্যাবহার এখন অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, প্রতিদিন বন্ধুদের সাথে কিছু সময় না কাটালে যেন দিনটা মোটেও ভাল কাটে না। হঠাৎ যদি দেখেন যে, আপনার ফেসবুক আইডিতে লগইন করতে পারছেন না, তখন কেমন লাগবে আপনার? সুরক্ষায় রাখতে চান আপনার প্রিয় ফেসবুক? তাহলে, জেনে নিন ফেসবুক হ্যাকিং থেকে বাঁচার কিছু উপায়ঃ-

স্মার্ট পাসওয়ার্ডঃ-
বর্তমান সময়ে বেশি হ্যাকিংয়ের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের ফেসবুক ইউজাররা। কারণ এদেশের মানুষ সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। উহারহণঃ- অনেকে নিজের নাম , মোবাইল নম্বর, মোবাইল নম্বরের শেষের ৮ , ৭, ৬ সংখ্যা , বা প্রিয় জনের নাম। ফলে হ্যাকাররা সহজে হ্যাক করতে পারছে।  যেসব অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাইটে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, সেগুলোতে দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।  অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে পাসওয়ার্ড জটিল করে তুলুন। প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে ‘লাসপাস’ বা ‘পাসওয়ার্ড সেফ’ কাজে লাগতে পারে। প্রতিবছর অন্তত একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

ফোনের ওয়াই-ফাই বন্ধ
সব সময় ফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখবেন না। হ্যাকারদের ঝোঁকই হচ্ছে এ ধরনের সুযোগ খোঁজা। সব সময় ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও ফোনের মধ্যে কী আছে, তা দেখার জন্য চেষ্টা চালায়।

সব সময় চালু রাখলে কী সমস্যা? সমস্যা হচ্ছে, আগে কোন কোন নেটওয়ার্কে আপনি সক্রিয় ছিলেন হ্যাকাররা তা জানতে পারেন। আগের সেই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে হ্যাকাররা প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। হ্যাকাররা আগের নেটওয়ার্কের ছদ্মবেশে নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করে আপনার ফোনকে আগের কোনো ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখায়। একবার এই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়লে হ্যাকাররা ফোনে অসংখ্য ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেন এবং আপনার অজান্তেই ফোন থেকে তথ্য চুরি, নজরদারির মতো কাজগুলো চালিয়ে যান। তাই যখন প্রয়োজন থাকে না, তখনই ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন।

দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার

এখন আর শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজেকে নিরাপদ ভাবা ঠিক হবে না। প্রায় সময়ই পাসওয়ার্ড হ্যাক হতে দেখা যাচ্ছে।

টু-স্টেপ অথেনটিকেশন বা দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করুন। এখন অনেক ওয়েবসাইট বা সার্ভিস দুই স্তরের নিরাপত্তা দিচ্ছে। দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরও একটি কোড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল ফোন থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন কোনো যন্ত্রে যখনই লগ ইন করতে যাবেন, তখন পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর একটি গোপন কোড চাওয়া হবে। এটি কেবল আপনার ফোনে তৎক্ষণাৎ পাবেন। যদি হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জানেন, তবে আপনার মোবাইলে আসা কোড না জানা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না।

 

পাসওয়ার্ড দেয়ার প্রয়োজন হলে

ফেসবুকের কোথাও পাসওয়ার্ড দেয়ার প্রয়োজন হলে প্রথমেই লক্ষ রাখতে হবে ওয়েব এড্রেসটি মূল ফেসবুকের এড্রেস কিনা।অনেক সময় কাছাকছি এড্রেসেরএবং দেখতে সম্পূর্ণ ফেসবুকেরওয়েবসাইটের মতো সাইটগুলোতে পাসওয়ার্ড দিলেই সাইটটি হ্যাক হয়ে যায়।

facebook.com- এর পরিবর্তে যদি facebookie.com, facabook.com ইত্যাদি রকম দেখা যায় তবে কখনোই ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ডদেয়া যাবে না।

> পাবলিক কম্পিউটারে বসলে কাজের শেষে অবশ্যই লগআউট করতে হবে এবং পাবলিক কম্পিউটারে কখনোই পাসওয়ার্ড রিমেম্বার দেয়া যাবে না।

> কখনও কোথাও থেকে আসা Facebook Password Reset Confirmation এরকম মেইলে পাসওয়ার্ড রিসেটে ক্লিক করা যাবে না।

> মেইলে আসা সফটওয়্যার না বুঝে সেটআপদেয়া যাবে না। অনেক সময় দেখা যায়,ফাইলটি দেখতে ভিডিও বা অডিও ফাইলমনে হচ্ছে কিন্তু আসলে এটি একটি সেটআপ ফাইল,যেটি সেটআপ দিলেই কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড চলে যাবে দুর্বৃত্তদের কাছে।

>হ্যাকার যদি ফিশিং বা অন্য কোন উপায়ে আপনারপাসওয়ার্ড জেনেও যায় তাহলেও সে আপনার আইডির কোন ক্ষতিই করতে পারবে না ।এর জন্য প্রথমেই যা করতে হবে তা হল যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এআপনার মোবাইল নাম্বার দেওয়া না থাকে তবে তা দিন । এবার আপনারaccount settings এ যান ।সেখানে Account Security এরপাশে লিখা change অপশনে ক্লিক করুন ।এবার Login Notifications এরনিচে লিখা Send me a text message সিলেক্ট করুন । এতে করে যদি আপনার সবসময় ব্যাবহার করা ডিভাইস (যেমন আপনার নিজের কম্পিউটার,মোবাইল) ছাড়া অন্য কোন ডিভাইস থেকে লগইন করা হয় তবে সাথে সাথে আপনার মোবাইলে বার্তা যাবে। এরপর Login Approvals এর নিচে লিখা Require me to enter a security code sent to my phone সিলেক্ট করুন । এতে করে যদি আপনার সবসময় ব্যাবহার করা নিজের ডিভাইস ছাড়া অন্য কোন ডিভাইস থেকে লগইন করার চেষ্টা করা হয় তবে ফেসবুক একটি কোড চাইবে যা আপনার মোবাইলে মেসেজ করে পাঠানো হবে। কোডটি ছাড়া কোনভাবেই লগইন করা সম্ভব হবে না । এটা সবচেয়ে গরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *